নিচে প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া আছে  

প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের কারণ ও প্রশ্ন উত্তর এর ছবি


আজকে আমরা এই আর্টিকেল এ জানবো প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের কারণ ও প্রশ্ন উত্তর। যা কলেজে এর ছাত্র এবং স্কুল এর ছাত্রদের  জন্য লেখা। যা গভীর ভাবে আলোচনা করা হবে। 

প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের উদ্ভব 

প্রাচীন ভারতে হিন্দু ধর্মে পুরোহিত দের প্রভাব বেড়ে গিয়ে ছিল কারণ , তখন পুরোহিত হতো সমাজের প্রধান কারণ বেদের শিক্ষা তাঁরা নিতো ।  তাই সাধারণ মানুষ রা বেদের সম্পর্ক তেমন কিছু জানতোনা , এই সুযোগের লাভ নীয়ে,পুরোহিত সমাজ তাদের মতো নিয়ম বানাতো। 

প্রতিবাদী ধর্ম উদ্ভব এর কারণ 

ষষ্ট শতকে প্রতিবাদী ধর্ম উদ্ভবের প্রধান কারণ হলো অশ্বমেধ যগ্য , যেখানে কমপক্ষে ৩ ০ ০ টি গরু বলি দিতে হতো , যা সাধারণ মানুষের পক্ষে এই বলী দেওয়া সম্ভব ছিলোনা , কারণ সেই সময় গরু ছিল ব্যবসা করার প্রধান কারেন্সি। 

এই ধর্ম উদ্ভবের আরো একটি কারণ হলো গঙ্গাসাগরে বাণিজ্য বন্ধ , এই কারণে অনেক বৈশ্য রাজা দেড় ক্ষতি হয়। 

রাজনৈতিক কাজে  হস্তক্ষেপ কারণ রাজারা তাদের স্বাধীন মতো রাজ্য শাসন করতে পারতো না। 

বর্ণভিত্তিক সমাজ , যে একজন ব্রাহ্মণ দের ছেলে ব্রাহ্মণ ই হতো , বৈশ্যদের ছেলে বৈশ্য হতো , ক্ষত্রিয়দের  ছেলে ক্ষত্রিয়, শুদ্রদের ছেলে শুদ্র হতো। এবং এদের মধ্যে থাকতো অচ্ছুত। 

ব্রাহ্মণদের এই কারণ গুলোর জন্য , প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন হয়। এবং অনেক ধর্ম ভারতে উদ্ভব হয়। 

প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন বলতে কী বোঝো  

ষষ্ঠ শতকে ভারতবর্ষে যে ধর্মীয় আন্দোলনগুলো বৈদিক যজ্ঞকেন্দ্রিক ধর্ম, ব্রাহ্মণ্য আধিপত্য, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়, সেগুলোকেই প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলন বলা হয়।


প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের প্রশ্ন উত্তর 

  • ষষ্ঠ শতকে প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের প্রধান কারণ কী ছিল?

এই আন্দোলনের প্রধান কারণগুলো হলো—জটিল যজ্ঞ ও ব্যয়বহুল ধর্মীয় আচার,ব্রাহ্মণদের আধিপত্য,জাতিভেদ প্রথা,সাধারণ মানুষের ধর্মচর্চা থেকে বঞ্চিত হওয়া,অহিংসা ও নৈতিক জীবনের প্রতি আকর্ষণ

  • ষষ্ঠ শতকের প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের প্রধান দুটি ধর্মের নাম লেখ ?

বৌদ্ধ ধর্ম , জৈন ধর্ম

  • বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক কে?

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক হলেন গৌতম বুদ্ধ

  • জৈন ধর্মের প্রবর্তক কে?

জৈন ধর্মের প্রবর্তক ছিলেন মহাবীর

  • বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষাগুলি কী কী?

বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা হলো—চার আর্যসত্য,অষ্টাঙ্গিক মার্গ,অহিংসা,মধ্যম পথ

তৃষ্ণা ত্যাগের মাধ্যমে নির্বাণ লাভ

  • জৈন ধর্মের মূল নীতি কী?

জৈন ধর্মের মূল নীতিগুলো হলো—অহিংসা,সত্য,অচৌর্য,ব্রহ্মচর্য,অপরিগ্রহ

  • কেন এই ধর্মগুলোকে ‘প্রতিবাদী’ বলা হয়?

এই ধর্মগুলো বৈদিক যজ্ঞ, পশুবলি, জাতিভেদ ও পুরোহিততন্ত্রের বিরোধিতা করেছিল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও নৈতিক ধর্মপথ দেখিয়েছিল—এই কারণেই এগুলোকে প্রতিবাদী ধর্ম বলা হয়।

  • ষষ্ঠ শতকের প্রতিবাদী ধর্ম আন্দোলনের সামাজিক প্রভাব কী ছিল?

জাতিভেদ কিছুটা দুর্বল হয়,অহিংসা ও নৈতিকতার প্রসার ঘটে,সাধারণ মানুষ ধর্মচর্চায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়

সমাজে মানবিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পায়

  • এই আন্দোলন ভারতীয় ইতিহাসে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এই আন্দোলন ভারতীয় সমাজে ধর্মীয় সংস্কার আনে, নৈতিকতার গুরুত্ব বাড়ায় এবং ভারতীয় দর্শন ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলে।